উচ্চ শিক্ষার প্রচেষ্টা (১৩৩৫)

উচ্চ শিক্ষার প্রচেষ্টা (১৩৩৫)
আগে বলেছি যে, আমাদেরগ্রামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। বৃটিশ সরকারের বদৌলতে প্রতি ইউনিয়নে প্রাইমারী স্কুল ছিল একটি করিয়া (ডিঃ বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত হত বলে ওর নাম ছিল-"বোর্ড স্কুল")। আমাদের ইউনিয়নের "বোর্ড স্কুল"ট চর বাড়ীয়া মৌজায় অবস্থিত, দূরত্ব আমাদের গ্রাম হতে প্রায় ৫ মাইল। আর বরিশাল শহর ছাড়া হাইস্কুল ছিল না এ অঞ্চলে একটিও। কাজেই ১৩৩৪ সালের পূর্বে আমাদের গ্রামের কোন ছেলে-হাই স্কুল তো দূরের কথা, প্রাইমারী স্কুল ও চিনতো না।

জাল বুনা শিক্ষা (১৩৩৬)

জাল বুনা শিক্ষা (১৩৩৬)
ভৌগোলিক অবস্থান ভেদে বিভিন্ন দেশের প্রকৃতি বিভিন্ন এবং প্রকৃতি ভেদে বিভিন্ন দেশের উৎপন্ন বা পণ্য দ্রব্য বিভিন্ন। আবার যে দেশে যে দ্রব্য উৎপন্ন হয় বেশী, সে দেশবাসীর পক্ষে সেই দ্রব্যই হয় প্রধান আহার্য ও ব্যবহার্য। নিম্ন সমতল ও নদীবহুল এই বাংলাদেশ। তাই এদেশে ধান ও মৎস্য সম্পদের প্রাচুর্য্য। কাজেই এ দেশবাসীর সর্ব প্রধান খাদ্যই হ’ল-মাছ ও ভাত। আর এ জন্যই বলা হয়-“মাছে ভাতে বঙ্গালী তুষ্ট"। এ কথাটা আমাদের গ্রামের পক্ষে বেশী সত্য। কেননা এ গ্রামটির প্রায় সব দিকেই নদী এবং ভিতরে ছোট-বড় খালও আছে পাঁচ-ছয়টি। নদী ও খাল গুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় বারো মাসই, যদি কেউ ধরতে জানে ও পারে।

চিকিৎসা শিক্ষা (১৩৩০)

চিকিৎসা শিক্ষা (১৩৩০)
১৩৩১ সাল। আমার জ্ঞাতি (চাচাত) ভ্রাতা আঃ রহিম (রহম আলী) মৃধা বেড়াতে যাবেন তাঁর বেহাই (মৃধা সাবের পুত্র ফজলুর রহমানের শ্বশুর) এমদাদ উল্লা কাজীর বাড়ীতে (কালীগঞ্জ)। মৃধা সাব ছিলেন- ধনে, মানে, জ্ঞানে, গুণে, এ অঞ্চলের সেরা ব্যক্তি। তিনি তার অনান্য কুটুম্ব ও সব জ্ঞাতি ভাইদের দাওয়াত করলেন এবং আমাকেও। অধিকন্তু আমাকে আমার গানের দ্বোহারগণকে নিয়ে যেতে বল্লেন। তিনি যাবেন সেখানে "পয়নামা" নিয়ে খুব ধুমধামের সহিত, সেখানে আমাকে গান করতে হবে। নির্দিষ্ট দিনে যথা সময়ে আমরা কাজী বাড়ী গেলাম এবং সবাই বৈঠকখানা ঘরে বসলাম। ঘরের মধ্যভাগটা -গেদী, বালিশ তাকিয়া ইত্যাদি নানা উপকরনে সাজানো। মৃধা সাব ও আমার অন্যান্য জ্ঞাতি ভাইয়েরা ওখানেই বসলেন। কিন্তু আমাকে বসতে দেওয়া হ’ল বারান্দায়। কারণ-আমি "বয়াতী”। গান করলাম। বাড়ীওয়ালা পুরষ্কার দিলেন দশ টাকা। কথায় বলে "যাক জান, থাক মান"। অর্থাৎ মানহানীর চেয়ে প্রাণহানী ভাল। আত্ম মর্যাদায় আঘাত পেয়ে সেদিন মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম-বেঁচে থাকতে আর কখনো গান করব না, চেষ্টা করে দেখব কোনো দিন মৃধা সাবের পাশে বসতে পারি কি-না। (চেষ্টায় সফলতা লাভ করেছিলাম তখন, যখন১৩৩৯ সালে চর বাড়ীয়া ইউনিয়ন বোর্ডের প্রথম পদে নিবাচিত হলাম এবং ১৩৪৩ সালের নির্বাচনেও উভয়ে পুনঃ উহার “সদস্য" পদে নির্বাচিত হলাম। অধিকন্তু আমি হলাম নির্বাচিত "সহ সভাপতি" মৃধা সাব নন। এতদ্ভিন্ন -আমি তার সামনেই সরকার কর্তৃক মনোনিত হয়েছিলাম ১৩৪৬ সালে স্থানীয় ডি, এস বোর্ডের "সদস্য" এবং ১৩৪৮ সালে চর বাড়ীয়া ইউনিয়ন জুট কমিটির "সহ সভাপতি"।)

ছবি ও জলের কল (১৩২২)

ছবি ও জলের কল (১৩২২)

মক্তবটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সকালে-বিকেলে দীর্ঘ লাফ ও দুপুরে-খালের জলে ডুব-সাঁতার ইত্যাদি খেলা-ধুলা নিত্যকার কাজ হয়ে দাঁড়াল এ পাড়ার সব ছেলেদের এবং আমারও। কিন্তু এতদ্ভিন্ন আরও দুটি কাজের প্রবণতা ছিল আমার। যাহা অন্য কোন ছেলের ছিল না। সে কাজ দুটি হলো-ছবি আঁকা ও জলের কল তৈরী করা
কেন, জানি না, আমি ছবি ভাল বাসতাম। “বাল্য শিক্ষা" ও অন্যান্য বইয়ের পাতা উল্টিয়ে আমি উহা বার বার দেখতাম এবং ওগুলি নিজ হাতে আঁকিবার নিষ্ফল চেষ্টা করতাম।
এ সময় (১৩২২ সাল) বরিশালে “জলের কল" স্থাপিত হতেছিল। বরিশালে যাতায়াতের পথে আমি উহা মনোযোগের সহিত দেখতাম ও দেখে আনন্দ পেতাম এবং বাড়ীতে এসে কৃত্রিম “জলের কল” তৈয়ার করতাম।

সমাপ্তি

বর্তমানে আমার বয়স প্রায় ৮৩ বছর। কাজেই আজ আমি যে ‘সমাপ্তি নিবন্ধটি লিখছি, তা বাহ্যত এ পুস্তিকাখানার সমাপ্তি হলেও মূলত আমার জীবনেরও সমাপ্তি। তাই আমার জীবননাট্য সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ আলোচনা করছি।